January 14, 2017

চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বাড়ানোর দাবি






গড় আয়ু ও কর্মক্ষমতা বাড়ার যুক্তিতে সরকারি চাকরিতে অবসরের সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে। দেশের শিক্ষিত বেকার তরুণদের ক্ষেত্রেও এ কথা প্রযোজ্য। এ কারণে সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৫ করার ‘যৌক্তিক ও ন্যায়সংগত’ বলে মনে করেন বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র পরিষদের সদস্যরা।

আজ শনিবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার সামনে চাকরির বয়স ৩৫-এ উন্নীত করার দাবিতে মানববন্ধনে এ দাবি পূরণ করার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র পরিষদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার শিক্ষার্থীরা।
সমাবেশে সংগঠনটির আহ্বায়ক মো. লোকমান হায়দার চৌধুরী বলেন, বিদ্যমান শিক্ষাব্যবস্থায় ছয় বছর বয়সে শিক্ষাজীবনের শুরু হয়। স্নাতক শেষ করতে ২৩ বছর লাগে। এ ছাড়া নন-পিএসসির ক্ষেত্রে চাকরিতে আবেদন শুরুর বয়স রাখা হয়েছে ১৮ বছর, যা একটি অকার্যকর আইন। ক্যাডারের ক্ষেত্রে ২১ বছর বয়সে আবেদনের আইনটিও গ্রহণযোগ্যতা হারিয়েছে। এ কারণে চাকরিতে আবেদনের আইনটি সংশোধন করলে বর্তমানে স্নাতক শেষে চাকরিতে আবেদনের বয়স স্বাভাবিকভাবেই তা ৩৫ বছর হয়।
মো. লোকমান হায়দার চৌধুরী বলেন, ‘আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। এর আগে সংবাদ সম্মেলন করেও আমরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের সময় চেয়েছি। আমাদের বিশ্বাস, তাঁকে আমাদের ন্যায্য ও যৌক্তিক দাবির সপক্ষে যুক্তি দিয়ে প্রমাণ করতে পারব। যদি বোঝাতে না পারি, তাহলে আমাদের আন্দোলন থেকে সরে আসব।’
সমাবেশে বলা হয়, ‘দেশের মানুষের গড় আয়ু যখন ৪৫ বছর ছিল, তখন চাকরিতে প্রবেশের বয়স ছিল ২৭ বছর, আয়ু বেড়ে ৫০ হলে ৩০ বছর করা হয়। এখন আয়ু বেড়ে ৭১ হওয়ার পরও চাকরিতে প্রবেশের বয়স কোনোভাবেই ৩০ বছর থাকতে পারে না। এ বয়স অন্তত ৩৫ হওয়া উচিত। ভারতের পশ্চিমবঙ্গে সরকারি চাকরিতে বয়সের সীমা ৪০ বছর। অন্য প্রদেশগুলোতেও ৩৮ থেকে ৪০ বছর। শ্রীলঙ্কা, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, তাইওয়ান ৩৫ থেকে ৪৫ বছর। এ ছাড়া ফ্রান্স, যুক্তরাষ্ট্রসহ উন্নত দেশগুলোতে কোথাও কোথাও চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৪০ বা তার ওপরে। দেশের দক্ষ ও মেধাবীরা যেকোনো বয়সে সরকারি চাকরিতে ঢুকতে পারেন। কিন্তু আমাদের দেশে যে সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে, তা শিক্ষিত জনগোষ্ঠীর জনশক্তিতে পরিণত হওয়ার পথে বাধা।’
এ ছাড়া সরকারি চাকরি না করে কেউ যদি উদ্যোক্তা হতে চান, সে সুবিধাও এ দেশে নেই। বাংলাদেশ ব্যাংকের এসএমই লোন সব তরুণ পান না। যাঁরা এ ঋণের আবেদন করেন, তাঁদের অনেক ঝামেলার মুখে পড়তে হয়।
মানববন্ধন সমাবেশ শেষে একটি শোভাযাত্রা শাহবাগের কেন্দ্রীয় গণগ্রন্থাগারের সামনে গিয়ে শেষ হয়। এখানে বলা হয়, ২৮ জানুয়ারিতেও একই দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে মানববন্ধন করবে এ সংগঠন। এ মানববন্ধনে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
সূত্রঃ প্রথম আলো 
Post a Comment