January 28, 2018

নিজের বিদ্যালয়ের বার্ষিক পাঠ পরিকল্পনা তৈরি করুন নিজেরাই ( পদ্ধতি, উদাহরণ দেয়া আছে)



 যেকোনো কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে হলে পরিকল্পনার প্রয়োজন, সে জন্যে দীর্ঘমেয়াদী বা স্বল্প মেয়াদী পরিকল্পনা তৈরি করা যায়। সারা বছর সফলভাবে পাঠদান করার জন্য বার্ষিক পাঠ পরিকল্পনা আবশ্যক। পাঠ্যসূচি ও পাঠ্যপুস্তকে উল্লিখিত বিষয়বস্তুরপাঠদান ও বছরের বিভিন্ন সময়ে অনুষ্ঠিতব্য পরীক্ষা গ্রহণের পরিকল্পনাকে বার্ষিক পাঠপরিকল্পনা বলা যায়।
কোন শ্রেণির জন্য নির্ধারিত কোন বিষয়ের পাঠ্যপুস্তক সারা বছরে সম্পূর্ণটা পড়িয়ে প্রয়োজন মত পুনরালোচনা করে তা থেকে গ্রহণ পরীক্ষা করতে পারলে আশা করা যায় যে, উক্ত বিষয় ও শ্রেণিতে পড়ানোর উদ্দেশ্য সাফল্য মণ্ডিত হয়েছে এবং ছাত্র-ছাত্রীরা পরবর্তী শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছে। পাঠ্যপুস্তক কিংবা পাঠ্যসূচিতে যে সব বিষয়ের উল্লেখ আছে তা যদি সারা বছর পড়িয়ে শেষ না করা যায় তাহলে ছাত্র-ছাত্রী পরবর্তী শ্রেণিতে পাঠ গ্রহণের যোগ্যতা অর্জনে সক্ষম হবে না। এ জন্য বছরের প্রথম পরিকল্পনা তৈরি করে নিতে হবে যেন সারা বছরে পাঠ্যসূচিতে উল্লিখিত বিষয় পড়িয়ে শেষ করা যায়, প্রয়োজন মত পুনরালোচনা করা যায় এবং বার্ষিক মূল্যায়নের জন্য পরীক্ষা গ্রহণ করা যায়।

বার্ষিক পাঠ পরিকল্পনা তৈরি না করলে বছরের শেষে দেখা যাবে কোন পাঠ্যবই একাধিকবার পড়ানো হয়েছে আর কোনটা হয়তো একবারও শেষ হয়নি। বিশেষতঃ যে সকল বিষয়ের জন্য পাঠ্যপুস্তক নেই, তার জন্য পরিকল্পনা তৈরি না করে হঠাৎ শ্রেণিতে গিয়ে কী পড়াতে হবে তা শিক্ষক বুঝতে পারবেন না। ফলে পাঠ সার্থক হবে না এবং বছরের শেষে দেখা যাবে এই সব বিষয় সম্পর্কে বিশেষ কিছু পড়ানো হয়নি কিংবা কতটুকু পড়ানো হয়েছে তারও কোন হদিস নেই। প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে পরিবেশ পরিচিতি, ধর্ম এবং সব শ্রেণিতে শারীরিক শিক্ষা, চারু ও কারুকলার কোন পাঠ্যপুস্তক নেই, এসব বিষয়ের পরিকল্পনা তৈরি না করে কোন রকমে পাঠদান সাফল্য মণ্ডিত করা যাবে না। সুতরাং পাঠদান যথাযথভাবে সম্পন্ন করার জন্য বার্ষিক পাঠ পরিকল্পনা তৈরির পদ্ধতি সম্পর্কে শিক্ষকের জানা অত্যন্ত জরুরী।

প্রতি বছরের শুরুতে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকগণ মিলে এনসিটিবি প্রণীত বার্ষিক পাঠ পরিকল্পনা অনুসরণ করে পরিকল্পনা প্রণয়ন করবেন। অনেক সময় অনাকাঙ্খিত কারণে যেমন প্রাকৃতিক দূর্যোগ- বন্যা, ঘূর্নিঝড়, জলোচ্ছাস বা অন্য কোনো কারণে বার্ষিক পাঠ পরিকল্পনা অনুসরণ করা সম্ভব হয়না তখন শিক্ষকগণ পরিকল্পনার সময় সমন্বয় করে তা শিক্ষার্থীদের জানাতে পারেন। এতে শিক্ষক বুঝতে পারেন তিনি পাঠ্যসূচির কতটুকু শেষ করেছেন আর কতটুকু অবশিষ্ট আছে এবং এজন্য তার বাড়তি ক্লাসের প্রয়োজন হবে কিনা। বার্ষিক পাঠ পরিকল্পনা শিক্ষককে পাক্ষিক পরিকল্পনা এবং প্রতিদিনের পাঠ পরিকল্পনা বা পাঠটিকা তৈরি করতে সহায়তা করে। সুতরাংক্লাস রুটিন প্রণয়নের পরে বার্ষিক পাঠ পরিকল্পনা তৈরি করা অত্যাবশ্যক
এক্ষেত্রে শিক্ষকগণ মিলিতভাবে হিসাব করে বছরের মোট কার্যদিন, তিনটি পরীক্ষার সময়কাল, পুনরালোচনা ও পাঠদানের জন্য বরাদ্দযোগ্য সময় ঠিক করবেন। এরপর প্রত্যেক শিক্ষক ক্লাস রুটিন মোতাবেক নিজ নিজ বিষয়ের পরিকল্পনা তৈরি করবেন এবং সম্মিলিত আলোচনার মাধ্যমে তা চূড়ান্ত করবেন। এ ধরনের বার্ষিক পাঠ পরিকল্পনা যত্নের সাথে  খাতায় সংরক্ষণ করতে হবে।


বার্ষিক পাঠ পরিকল্পনা তৈরির পদ্ধতি :
কোন প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক পাঠ পরিকল্পনা তৈরি করার জন্য যে বিষয়গুলোর প্রতি নজর রাখা দরকার তা হলো :
         প্রথমতঃ বর্ষপঞ্জি, ছুটির তালিকা ও ক্লাস রুটিন দেখে সারা বছরে কোন বিষয়ের পাঠদানের জন্য কতটি কার্যদিবস পাওয়া যাবে তা হিসাব করে বের করতে হবেধরা যাক, একটি বছর ৫২ সপ্তাহে ৫২টি শুক্রবার ও ৭৫ দিন ছুটি থাকে, তাহলে সাপ্তাহিক ও উপলক্ষ ভিত্তিক ছুটি বাদ দিয়ে থাকে ৫২ সপ্তাহ বা ৩৬৫ দিন - (৫২+৭৫) দিন = ২৩৮ দিন। এ থেকে জানুয়ারি মাসের ২ সপ্তাহের ১২ দিন ও ডিসেম্বরে ২ সপ্তাহে ১২ দিন বাদ দিতে হবে। কারণ জানুয়ারি মাসে শিক্ষা সপ্তাহ পালন এবং ডিসেম্বর মাসে বার্ষিক পরীক্ষা, প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষার পর পড়া শুনা না হওয়ার সম্ভাবনা ইত্যাদি বাদ দিয়ে সারা বছরে মোট কার্য দিবস পাওয়া যাবে ২৩৮ - (১২+১২) = ২১৪টি। অতএব যে বিষয়ে রুটিনে প্রতিদিন একটি করে ক্লাস আছে সে বিষয়ের জন্য সারা বছরে ২১৪টি কার্যদিবস পাওয়া যাবে। অনুরূপভাবে যে বিষয়ের জন্য সপ্তাহে ৩টি ক্লাস আছে তার কার্যদিবস হবে ২১৪ এর অর্ধেক, অর্থাৎ ২১৪ ¸ ২= ১০৭ দিন। এভাবেপ্রত্যেকটি বিষয়ের জন্য কার্যদিবস হিসাব করে বের করতে হবে।
        দ্বিতীয়তঃ মনে রাখা দরকার কেবলমাত্র পাঠদানের জন্য সবগুলো কার্যদিবস পাওয়া যাবেনা। এ থেকে কয়েকটি দিন পুনরালোচনার জন্য এবং কয়েকটি দিন পরীক্ষার জন্য হাতে রাখতে হবে। যেমন- ৩টি পরীক্ষার জন্য মোট ৮ + ৮ + ৮ = ২৪ দিন রাখা যেতে পারে (প্রথম সাময়িক পরীক্ষা ৮ দিন, দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষা ৮দিন এবং বার্ষিক পরীক্ষার জন্য ৮দিন)। পুনরালোচনার জন্য মোটামুটিভাবে মোট কার্য দিবসের ১/৫ অংশ রাখা যায়। তাহলে দেখা যাচ্ছে ২১৪ এর ১/৫ = (প্রায়) ৪৩দিন পুনরালোচনার জন্য রাখতে হবে। সুতরাং পরীক্ষা ও পুনরালোচনার দিনগুলো বাদ দিয়ে মোট কার্যদিবস হয়, ২১৪-(২৪+৪৩) = ১৪৭ দিন।
     তৃতীয়তঃ পূর্ণবছরটিকে ৩ ভাগে ভাগ করতে হবে। জানুয়ারি থেকে ১ম সাময়িক পরীক্ষা পর্যন্ত, ১ম সাময়িক পরীক্ষার পর থেকে ২য় সাময়িক পরীক্ষা পর্যন্ত এবং ২য় সাময়িক পরীক্ষার পর থেকে বার্ষিক পরীক্ষা পর্যন্ত
পরিশেষে শিক্ষকগণ নিম্নলিখিত ছক অনুযায়ী বার্ষিক পাঠ পরিকল্পনা তৈরি করতে পারেন।
সময়াবদ্ধ বার্ষিক পাঠ পরিকল্পনা
প্রথম সাময়িক পরীক্ষা, ২০১৮
শ্রেণি : প্রথম,      বিষয় : বাংলা
পাঠ নম্বর
পাঠের শিরোনাম
পিরিয়ড সংখ্যা
পাঠদানের মাস ও  সপ্তাহ
মন্তব্য




















আবার বার্ষিক পাঠ পরিকল্পনার নিম্নলিখিত আমার বিদ্যালয়ের উদাহরণটি  অনুসরণ করতে পারেন।যদিও তা গত বছরের                                                 
                                                     কেটরা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, বিরামপুর, দিনাজপুর 
                          বার্ষিক পাঠ পরিকল্পনা-২০১৭

              প্রথম শ্রেণি                                                                                বিষয় - বাংলা

ক্র
মাসের নাম
শুক্রবার ও অন্যান্য ছুটি
কার্য দিবস
পাঠ
পাঠের বিষয়
পিরিয়ড সংখ্যা
পাঠ সমাপ্তির তারিখ
মন্তব্য
০১
জানুয়ারী
০৪+০১=০৫
২৬
আমার পরিচয়
১৫.১.১৭
# বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা
# শিক্ষক সহায়িকা অনুসরণে ১-৬ পর্যন্ত পাঠদান করতে হবে।
# বেইসলাইন মূল্যায়ন করা
আমি ও আমার সহপাঠী
১৭.১.১৭
আমরা কী কী কাজ করি
১৮.১.১৭
ছড়া : আতা গাছে তোতা পাখি
২১.১.১৭
কাক ও কলসি
২৩.১.১৭
আঁকাআঁকি
২৮.১.১৭
বর্ণশিখি : অ আ
৩০.১.১৭
০২



ফেব্রুয়ারী

০৪+০২=০৬

২২
বর্ণশিখি : ই ঈ
০২.২.১৭












বর্ণশিখি : উ ঊ
০৪.২.১৭
১০
বর্ণশিখি : ঋ
০৬.২.১৭
১১
বর্ণশিখি : এ ঐ
০৮.২.১৭
১২
বর্ণশিখি : ও ঔ
১১.২.১৭
১৩
স্বরবর্ণ
১৩.২.১৭
১৪
ছড়া : ইতল বিতল
১৫.২.১৭

পাক্ষিক মূল্যায়ন
১৬.২.১৭
১৫
রেখা যোগ করে আঁকি/স্বরবর্ণ
শনাক্তকরণ ও মূল্যায়ন
১৯.২.১৭
১৬
বর্ণশিখি : ক খ গ ঘ ঙ
২৫.২.১৭
০৩
মার্চ
০৫+০=০
১৭
বর্ণশিখি : চ ছ জ ঝ ঞ
০১.৩.১৭

১৮
বর্ণশিখি : ট ঠ ড ঢ ণ
০৬.৩.১৭
১৯
বর্ণশিখি : ত থ দ ধ ন
১১.৩.১৭
২০
বর্ণশিখি : প ফ ব ভ ম
১৬.৩.১৭

পাক্ষিক মূল্যায়ন
১৯.৩.১৭
২১
ছড়া : বাক বাকুম পায়রা
২৩.৩.১৭
২২
ছবি দেখি, শব্দ বলি ও লিখি
২৯.৩.১৭
০৪
এপ্রিল

০৪+০২=০৬
২৪
২৩
বর্ণশিখি : য র ল শ ষ
০৩.৪.১৭






২৪
বর্ণশিখি : স হ ড় ঢ় য়
০৮.৪.১৭
২৫
বর্ণশিখি : ৎ ং ঃ ঁ
১২.৪.১৭

পাক্ষিক মূল্যায়ন
১৫.৪.১৭
২৬
ব্যাঞ্জনবর্ণ (পড়া ও লেখা)
১৮.৪.১৭

পাঠের পুনরালোচনা
২২.৪.১৭

/০/১ - ৩/০/১
১ম সাময়িক পরীক্ষা
মে
+১=১
২৭
ছড়া : হনহন পনপন
০৮.৫.১৭






২৮
ব্যঞ্জনবর্ণ : পড়া ও লেখা
০৯.৫.১৭
২৯
বাংলা বর্ণমালা : পড়া ও লেখা
১৪.৫.১৭
৩০
ছড়া : মামার বাড়ি
১৬.৫.১৭
৩১
ছবি দেখি বলি ও লিখি
১৮.৫.১৭
৩২
আ- কার  া
২১.৫.১৭
৩৩
ই- কার  ি
২৩.৫.১৭

পাক্ষিক মূল্যায়ন
২৫.৫.১৭
জুন





পবিত্র রমজানের ছুটি



জুলাই



০৪+১=৫






৩৪
ঈ- কার  ী
০২.৭.১৭












৩৫
উ- কার  ু
০৪.৭.১৭
৩৬
ঊ- কার  ূ
০৬.৭.১৭
৩৭
ঋ- কার  ৃ
১০.৭.১৭
৩৮
এ- কার  ে
১২.৭.১৭
৩৯
ঐ- কার  ৈ
১৫.৭.১৭
৪০
ও- কার  ো
১৭.৭.১৭

পাক্ষিক মূল্যায়ন
১৮.৭.১৭
৪১
ঔ- কার  ৌ
২০.৭.১৭
৪২
কারচিহ্ন : শুনি ও বলি
২৩.৭.১৭
৪৩
খালি ঘরে কারচিহ্ন লিখি
২৫.৭.১৭
৪৪
ছড়া : ভোর হলো
২৭.৭.১৭
৪৫
শুভ ও দাদিমা
৩১.৭.১৭
আগস্ট
+০৩=

পাক্ষিক মূল্যায়ন ও পাঠের পুনরালোচনা
০৫.৮.১৭


/০৮/১ - ১/০৮/১
২য় সাময়িক পরীক্ষা
৪৬
রুবির বাগান
১৯.৮.১৭

৪৭
মায়ের ভালোবাসা
২২.৮.১৭
৪৮
মুমুর সাত দিন
২৬.৮.১৭
৪৯
ছড়ায় ছড়ায় সংখ্যা
৩০.৮.১৭
০৯
সেপ্টেম্বর
+০=

পাক্ষিক মূল্যায়ন
০৩.৯.১৭

৫০
পিঁপড়ে ও ঘুঘু
০৬.৯.১৭
৫১
গাছ লাগানো
০৯.৯.১৭
৫২
আমাদের দেশ
১২.৯.১৭
৫৩
ছবি নিয়ে কথা
১৩.৯.১৭
৫৪
ছড়া : ছুটি
১৬.৯.১৭
৫৫
মুক্তিযোদ্ধাদের কথা
১৯.৯.১৭

পাক্ষিক মূল্যায়ন
২০.৯.১৭
অক্টোবর
০৪+০=১


পুনরালোচনা
পাঠ-১ থেকে পাঠ-৪৩ পর্যন্ত

প্রতি কর্মদিবসে কমপক্ষে দুটি করে পাঠ
নভেম্বর
+০=০




পুনরালোচনা
পাঠ-৪৪ থেকে পাঠ-৫৫ পর্যন্ত
২৫

প্রতি কর্মদিবসে কমপক্ষে দুটি করে পাঠ
ডিসেম্বর
+০=০৫
০৮
+

পুনরালোচনা
১৮ নং থেকে ২৩ নং পর্যন্ত

বার্ষিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের আলোকে মূল্যায়ন

১১/১২/১ - ১৮/১২/১

বার্ষিক পরীক্ষা



বার্ষিক পরীক্ষা ত্তর কর্মদিবস দিন

1 comment: