January 13, 2017

শিক্ষার্থীদের পাঠ্যবই থেকে বাদ পড়েছে যা


পাঠ্যবইয়ে নতুন লেখা সংযোজন-বিয়োজন ও সম্পাদনের ঘটনায় দেখা দিয়েছে নানামুখি বিতর্ক। গণমাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়ায় এই নিয়ে চলছে সরব আলোচনা। শিক্ষাবিদরা মনে করছেন এই পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে সরকারের হেফাজতের কাছে নতিস্বীকার নীতিই প্রতিফলিত হয়েছে। অন্যদিকে, হেফাজত ইসলাম ও ধর্মভিত্তিক দলগুলো মনে করছে তাদের দাবি ন্যায্য এবং সরকার সেটাই পুরণ করেছে। পাঠ্যবইয়ে কোথায় কি পরিবর্তন ঘটেছে তা তুলে ধরা হলো পাঠকদের জন্য।
পঞ্চম শ্রেণির বাংলা বই থেকে হুমায়ুন আজাদের ‘বই’ কবিতা। যার পরিবর্তে ‘বিদায় হজ’ সংযুক্ত হয়েছে। ষষ্ঠ শ্রেণির বাংলা বই থেকে বাদ পড়েছে এস ওয়াজেদ আলীর ‘রাঁচি ভ্রমণ’। যার পরিবর্তে সৈয়দ মুজতবা আলীর ‘নীলনদ আর পিরামিডের দেশ’ যুক্ত হয়েছে।
উল্লেখ্য, ভারতের ঝাড়খন্ডের রাজধানী রাঁচি হিন্দুদের একটি তীর্থস্থান।
সপ্তম শ্রেণির বাংলা বইতে নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘লাল ঘোড়া’ গল্পটি বাদ দেওয়া হয়েছে। যার পরিবর্তে যুক্ত হয়েছে হাবীবুল্লাহ বাহারের ‘মরু ভাস্কর্য’।
বাদ দেওয়া হয়েছে সুকুমার রায়ের ‘আনন্দ’ কবিতা।
পঞ্চম শ্রেণির বাংলা বই থেকে বাদ পড়েছে কবি গোলাম মোস্তফা রচিত ‘প্রার্থনা’। যার পরিবর্তে যোগ হয়েছে কবি কাজী কাদের নেওয়াজ রচিত ‘শিক্ষাগুরুর মর্যাদা’।
বাদ দেওয়া হয়েছে সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের ‘মে দিনের কবিতা’। স্বর্ণকুমারী দেবীর ‘উপদেশ’ কবিতা বাদ দেওয়া হয়েছে।
রণেশ দাশগুপ্তের ‘মাল্যদান’ ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘বাংলাদেশের হৃদয়’ কবিতা বাদ দেওয়া হয়েছে।
বাদ পড়েছে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের বিখ্যাত গল্প ‘লালু’।
অষ্টম শ্রেণির বাংলা বইতে বুদ্ধদেব বসুর ‘নদীর স্বপ্ন’ কবিতাটি বাদ দিয়ে কায়কোবাদের ‘প্রার্থনা’ যুক্ত হয়েছে।
উপেন্দ্র কিশোর রায় চৌধুরী রচিত ‘রামায়ণ কাহিনী-আদিখণ্ড’ শীর্ষক গল্পটি বাদ দেওয়া হয়েছে।
নবম শ্রেণির বাংলা বই থেকে সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘পালামৌ’ গল্প বাদ দেওয়া হয়েছে। জ্ঞানদাস রচিত ‘সুখের লাগিয়া’ কবিতা বাদ দিয়ে শাহ মোহাম্মদ সগীরের ‘বন্দনা’ যুক্ত হয়েছে।
ভারতচন্দ্র গুণাকর রচিত ‘আমার সন্তান’ কবিতা বাদ পড়েছে। যার পরিবর্তে আলাওলের ‘হামদ’ কবিতাটি যুক্ত হয়েছে।
লালন শাহ রচিত ‘সময় গেলে সাধন হবে না’ কবিতার পরিবর্তে আব্দুল হাকিমের ‘বঙ্গবাণী’ কবিতাটি যুক্ত হয়েছে।
রঙ্গলাল বন্দোপাধ্যায়ের ‘স্বাধীনতা’ কবিতার পরিবর্তে গোলাম মোস্তফার ‘জীবন বিনিময়’ কবিতা যোগ হয়েছে।
সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘সাঁকোটা দুলছে’ কবিতা বাদ দিয়ে কাজী নজরুল ইসলামের কবিতা ‘উমর ফারুক’ দেওয়া হয়েছে।
দ্বিতীয় শ্রেণির বাংলা বইয়ে হযরত মুহাম্মদ (সা.) জীবনচরিত ‘সবাই মিলে করি কাজ’ যোগ হয়েছে। তৃতীয় শ্রেণির বাংলা বইয়ে ‘খলিফা হযরত আবু বকর (রা.)’, চতুর্থ শ্রেণির বাংলা বইয়ে ‘খলিফা হযরত ওমর (রা.)’ যোগ করা হয়েছে। এসব রচনা ২০১৩ সালে বাংলা বই থেকে সরিয়ে ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা বইয়ে নেওয়া হয়েছিল।



Post a Comment