April 15, 2020

ঢাকা/নারায়নগঞ্জ ফেরতরা হোম কোয়ারেন্টাইনের মাধ্যমে যেভাবে করোনাভাইরাস প্রতিরোধ করবে


আমাদের বুলু হোসেন ঢাকা থেকে গ্রামে ফিরে চৌদ্দদিনের জন্য নিজ বাসায় হোম কোয়ারেন্টাইনে আছে। এই খবর পাওয়ার পরই দূর-দূরান্ত থেকে দুনিয়ার আত্মীয়স্বজন ওকে দেখতে আসা শুরু করেছে আপেল, মাল্টা আর হরলিক্স নিয়ে। পাসের থেকে বড় চাচা এসেছেন চাচী আর চাচাতো ভাইদেরকে নিয়ে। মেজ ফুপা এসেছেন বিরামপুর থেকে। হিলি হাকিমপুর থেকে এসেছেন খালা খালু। এসে বললেন, 'শুনলাম তুমি নাকি চৌদ্দদিন ঘরের ভেতরে থাকবি তাই তোমার খালা বললো ছেলেটারে দেখে আসি৷ সে তোমার জন্য রান্না করে নিয়ে আসছে। তোমার প্রিয় ইলিশ মাছ আর গরুর গোস্তের সালুন।'
তারপর সবাই মিলে একসাথে বসে খাওয়াদাওয়া করলো।
বন্ধুরা আসলো কিছুক্ষণ পর সিগারেট আর তাসের প্যাকেট নিয়ে। একসাথে বসে তাস খেলার জন্য। মা মুড়ি মাখিয়ে দিয়ে গেলেন সবাইকে খাওয়ার জন্য।
সন্ধ্যাবেলা বুলু হোসেন বললো, 'মা সারাদিন বাসায় বসে থেকে বোর হচ্ছি। আমি একটু সামনে থেকে হেটে আসি।'
বুলু হোসেনের মা বললো, 'আচ্ছা বাবা, বেশি দূর যাস না কিন্তু। ডাক্তার নিষেধ করে গেছে। অল্প একটু ঘুরেই বাসায় চলে আসিস।'
বুলু হোসেন বেশিদূর গেলো না। শুধু মোড়ের চায়ের দোকান থেকে চা আর সিগারেট খেলো। এলাকার এক তাহের কাকা গম্ভীর গলায় জিজ্ঞেস করলো, 'তুমিই তো হোম কি বলে তাতে আছো। বাইরে যাওয়া নিষেধ?'
- হ, চাচা। হোম কোয়ারেন্টাইন।
- হ্যাঁ হ্যাঁ, ঐটাই। বাজারে তো যাইতে পারবা না৷ কিছু দরকার হলে বইলো, এনে দিব।
- আচ্ছা চাচা।
- আর পারলে একসময় আমাদের বাসায় এসো। তোমার চাচী বলতেছিলো তোমার কথা। ঢাকা যাওয়ার আগে সেই কত ছোট দেখেছে। এখন কত বড় হইছ সেটা দেখবে।
তিন চারদিন পর বুলু হোসেন আরো বোরিং লাগা শুরু করলো। সে বাকি হোম কোয়ারেন্টাইন শ্বশুরবাড়িতে পূরণ করার জন্য সেজেগুজে রওয়ানা দিলো। খবর পেয়ে বুলু হোসেনের শ্বাশুড়ি বড় বড় দুইটা মুরগি জবাই দিলেন। জামাই এতোদিন পর আসছে, তার ওপর অসুস্থ বলে কথা। ভালো খাতিরদারি দরকার!
রাতে ঢাকা ফেরত দুলাভাইয়ের কাছে শালা-শালীরা আবদার করলো রেস্টুরেন্টে খেতে যাওয়ার। বুলু হোসেন সবাইকে নিয়ে নামকরা এক রেস্টুরেন্টে ডিনার করতে গেল। সবাই যখন হৈ-হুল্লোড় করে খাওয়াদাওয়া করছিলো, তখন বুলু হোসেন দেখলো রেস্টুরেন্টের দেয়ালে লাগানো বিশাল টিভিতে সংবাদপাঠিকা বলছে, 'সারাদেশে নিজ বাসায় হোম কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন ঢাকা/ নারায়নগঞ্জ ফেরত ------------ জন। 

August 17, 2019

প্রসঙ্গ GTA Ambassador

প্রসঙ্গ GTA Ambassador
এটি নি:সন্দেহে ভালো খবর, আমাদের শিক্ষকগণ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্লাটফর্মে কাজ করছেন। নিজেদের মেধার স্বাক্ষর রাখছেন। দেশকে নিয়ে যাচ্ছেন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে। আমাদের দেশে ৯৭ জন শিক্ষক আছেন যারা MIEExpert ২০১৮-১৯. এবছর হয়ত এই সংখ্যা আরো বাড়বে। এটি মাইক্রোসফটের নিজস্ব প্রোগ্রাম। সারা বিশ্বের শিক্ষকগণ একটি প্লাটফর্মে কাজ করেন। অনেক কোর্স করতে পারেন বিনা পয়সায়। আমাদের দেশে মুক্তপাঠ সেই জায়গাটি দখল করে নিয়েছে। বিভিন্ন স্কিল ডেভেলপমেন্ট কোর্স আমরা বিনা পয়সায় নিজেদের সময় অনুযায়ী করে থাকি আবার সার্টিফিকেটও পাই। যদিও মুক্তপাঠ পেইড কোর্স চালু করেছিলো। একটি পেইড কোর্স এসইও -এর উপর হয়েছিল। একটি বিশেষ কোম্পানী মুক্তপাঠ প্লাটফর্মে এসে পেইড কোর্স টি পরিচালনা করেছিল। ঐ কোর্সের ফি ছিল ৮০০ টাকা

July 26, 2019

ট্রুপ মিটিং/প্যাক মিটিং এর ধারণা ও সম্পাদনের কৌশল:



যেভাবে প্যাক মিটিং করতে হয়
প্যাক মিটিং
ছয় থেকে এগারো বছর বয়সের শিশুদের নিযে গঠিত হয় স্কা্উটিং এর একটি শাখা কাব-স্কাউট। ছয় থেকে এগারো বছর বয়সী কাবদের হাতে কলমে শিক্ষাদানের একমাত্র ও নিজস্ব অনুষ্ঠান হলো প্যাক মিটিং। এই প্যাক মিটিং এর মাধ্যমেই কাবদের ক্রমোন্নতিশীল শিক্ষার মূল্যায়ণ করা হয়। এর বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো গ্র্যান্ড ইয়েল, যা স্কাউটিং এর অন্য কোনো শাখায় নেই। ইউনিট পর্যায়ে কাব-স্কাউটিংকে আরো বেগবান করার জন্য আমার এ ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা। এখানে একটি আদর্শ প্যাক মিটিংএ করণীয় সকল বিষয়কে আলোচনায় আনার চেষ্টা করেছি। এখানে প্যাক মিটিং এর একঘন্টা ব্যাপী বিভিন্ন কাজকে পর্যায়ক্রমে বর্ণনা করতে চেষ্টা করেছি।

July 25, 2019

বিদ্যালয়ে কাব দল পরিচালনার জন্য যে রেজিষ্টারগুলো মেইন্টেইন করতে হয়



প্রতিটি কাব ইউনিটে যে যে রেজিস্টার মেইনটেইন করা জরুরী তার তালিকাসহ পূর্ণ বিবরণের তথ্যের প্রয়োজনীয়তা অনেকদিন ধরেই উপলব্ধি করছিলাম। কিন্তু এসব তথ্য কোনো একটি বিদ্যালয়ের সকল দলিল দস্তাবেজ ঘেটেও পাওয়া কঠিন। আর যারা কাব কার্যক্রমে একেবারেই নবীন তাদের জন্য রীতিমত কষ্টকর। আজ আমি সেই নবীন ইউনিট লিডার ভাই ও বোনদের জন্য আমার অভিজ্ঞতা থেকে লেখার চেষ্টা করছি। আমার এ লেখার দ্বারা যদি ইউনিট লিডার ভাই ও বোনদের সামান্যতম উপকার হয় তবে তাই হবে আমার লেখার পুরস্কার।
কাব ইউনিট ব্যবস্থাপনায় মোট ১৪টি বই বা রেজিস্টার বই সংরক্ষণ করতে হয়। নিচে একে একে সবগুলোর তথ্য ও কিভাবে তা মেইনটেইন করতে হবে তার বর্ণনা দেয়া হলঃ
গ্রুপ কমিটি রেজুলেশন বইঃ অন্য সকল সভার কার্যবিবরণী লেখার খাতা বা বইয়ের মতোই এটি গ্রুপ কমিটির সভা ও এর সকল কার্যবিবরণী লেখার জন্য ব্যবহার করা হয়। রেজুলেশন লেখার ধরণ বিস্তারিত জানতে পেজের সবচেয়ে নিচে দেখুন। 
প্যাক মিটিং রেজিস্টারঃ প্রতি সপ্তাহের প্যাক মিটিং এর পূর্ণ বিবরণ সম্বলিত এই রেজিস্টার। একটি প্যাক মিটিং এ যত সময়ব্যাপী কার্যক্রম পরিচালনা করা হয় তার সবই এই রেজিস্টারে লিপিবদ্ধ আছে। শুধুমাত্র স্থান, তারিখ, সময়, নতুন পাঠ এর নির্ধারিত স্থানে সামান্য কিছু লেখা আছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে অপশনে টিক চিহ্ন দিয়ে সাপ্তাহিক প্যাক মিটিং রেজিস্টার মেইনটেইন করা যায়।