February 26, 2018

কেজি/ বেসরকারি স্কুল তৈরির নীতিমালা-


পরিচালনা কমিটি :

 নীতিমালায় বলা হয়েছে, বাধ্যতামূলকভাবে প্রতিটি স্কুল ১১ সদস্যের ম্যানেজিং কমিটির মাধ্যমে পরিচালিত হতে হবে। ম্যানেজিং কমিটিতে দু’জন শিক্ষক প্রতিনিধি (একজন নারী), দু’জন নির্বাচিত অভিভাবক প্রতিনিধি, উদ্যোক্তা বা প্রতিষ্ঠাতাদের মধ্য থেকে ছয়জন। এদের মধ্য থেকে একজন সভাপতি ও সহ-সভাপতি নির্বাচিত হবেন। প্রতিষ্ঠানের প্রধান পদাধিকার বলে কমিটির সচিব হবেন। কমিটির মেয়াদ হবে দুই বছর। এই কমিটিই শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি, সেশন চার্জ এবং শিক্ষক-কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন-ভাতা নির্ধারণ করবে। তাঁরাই শিক্ষক নিয়োগ থেকে শুরু করে প্রতিষ্ঠানের সব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।
শিক্ষার্থী ভর্তি : শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও নাতি-নাতনির জন্য পাঁচ শতাংশ, প্রতিবন্ধীদের জন্য দুই শতাংশ কোটা সংরক্ষণ । ১১ পৃষ্ঠার ৭ম ক.­ করতে হবে।



টিউশন ফি :

নতুন নীতিমালায় টিউশন ফি’র ব্যাপারে বলা হয়েছে, শিক্ষার গুণগতমান এবং অবকাঠামো সুযোগ সুবিধা বিবেচনা করে ম্যানেজিং কমিটি শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি নির্ধারণ করবে। তবে প্রতি বছরে ১০ শতাংশের বেশি ফি বাড়াতে পারবে না। ভর্তি নবায়ন বা পুনঃভর্তির নামে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করা যাবে না। তবে সহপাঠ কার্যক্রম বিশেষ সুবিধা এবং উন্নতমানের যন্ত্রপাতি বা প্রযুক্তি ব্যবহারের জন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করতে পারবে। তবে এটি ম্যানেজিং কমিটি কর্তৃক লিখিতভাবে অভিভাবকদের জানতে হবে।

পাঠ্যপুস্তক :

 নীতিমালায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশের ইতিহাস ও সংস্কৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্য নয় এমন পাঠ্যপুস্তক পড়ানো যাবে না। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নয় ও স্বাধীনতাবিরোধী এমন শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক অনুসরণ করা যাবে না। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড অনুমোদিত অথবা আন্তজার্তিকভাবে স্বীকৃত শিক্ষাক্রম অনুসরণ করতে হবে।

শিক্ষক বিন্যাস :

 প্লে-গ্রুপ, নার্সারি, কিন্ডারগার্টেন ও প্রাথমিক স্কুলের ১৫ জন শিক্ষার্থীর জন্য একজন শিক্ষক, মাধ্যমিক ও সমমানের জন্য ২৫ জনে একজন শিক্ষক, উচ্চ মাধ্যমিক ও সমমানে ৩০ জন শিক্ষার্থীর জন্য একজন শিক্ষক নিয়োগ দিতে হবে। প্রতিষ্ঠানের আয়-ব্যয়ের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে প্রতি অর্থবছরের শেষে চার্টার্ড একাউন্ট্যান্ট দিয়ে হিসাব নিরীক্ষা করতে হবে।
বার্ষিক কার্যক্রম তদারকি : শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক কার্যক্রম তদারকি, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়নের জন্য মাউশির (মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা) অধীনে আঞ্চলিক উপ-পরিচালককের অধীন জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার মাধ্যমে ডিসেম্বর মাসে পরিবীক্ষণ করবে।
ব্যানবেইস নির্ধারিত প্রতিবেদন ফরমে মূল্যায়ন প্রতিবেদন প্রস্তুত করতে হবে। এর অনুলিপি সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয় ও নিবন্ধন কর্তৃপক্ষের কাছে দাখিল করতে হবে।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জায়গার পরিমাণ : মেট্রোাপলিটন এলাকার প্লে-গ্রুপ, নার্সারি, কিন্ডারগার্টেন বা প্রাথমিক স্কুলের জন্য শূন্য দশমিক ১৫ একর, মেট্রোপলিটন এলাকার বাইরের জন্য শূন্য দশমিক ৩৩ একর, নিম্ন-মাধ্যমিক, মাধ্যমিক বা সমমানের মেট্রোপলিটন এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য শূন্য দশমিক ১৫ একর, পৌর এলাকার জন্য শূন্য দশমিক ৩০-একর ও পল্লী এলাকার জন্য শূন্য দশমিক ৫০ একর জায়গা থাকতে হবে। উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে মেট্রোপলিটন এলাকার জন্য শূন্য দশমিক ২৫ একর, পৌর এলাকার জন্য শূন্য দশমিক ৫০ একর ও পল্লী এলাকার জন্য শূন্য দশমিক ৭৫ একর জমি থাকতে হবে। তবে মেট্রোপলিটন এলাকায় নিজস্ব ভূমি বা ভবন না থাকলে অন্তত পাঁচ বছরের জন্য ভাড়া চুক্তি থাকতে হবে। প্লে-গ্রুপ, নার্সারি, কিন্ডারগার্টেন বা প্রাইমারি স্কুলের জন্য চার হাজার বর্গফুট ভবন, নিম্ন-মাধ্যমিক, মাধ্যমিক বা সমমানের জন্য পাঁচ হাজার বর্গফুট এবং উচ্চ মাধ্যমিক ও সমমানের জন্য ছয় হাজার বর্গফুট ভবন থাকতে হবে।

No comments: