November 29, 2016

উপস্থাপনা এবং বক্তৃতাকে প্রানবন্ত করতে কিছু ট্রিপস

উপস্থাপনা এবং বক্তৃতাকে প্রানবন্ত করতে কিছু ট্রিপস
উপস্থাপনা এবং বক্তৃতা এমন একটা মাধ্যম যা আপনাকে অন্যদের সামনে আপনার যোগ্যতা ও সৃষ্টিশীলতার পরিচয় প্রকাশ করবে যদি আপনি হতে চান একজন শিক্ষক, কর্মক্ষেত্রের অফিসার এবং নেতৃস্থানীয় কোন ব্যক্তিত্ব। আপনার মূল কাজ হলো প্রেরণা বা মটিভেশন করা। তাই কিভাবে নিজেকে প্রস্তুত করবেন যদি এরকম অবস্থার মুখোমুখি হতে হয়। এই বিষয়ে থাকলো কিছু পরামর্শ। কবি শেখ সাদির যুগেই পোশাকের মূল্যায়ণ ছিল। বর্তমানে মানুষ তো আরো উন্নয়নের শীখরে পৌছে যাচ্ছে। বিজ্ঞান আর প্রযুক্তির যুগে পোশাকের কথা বলাই বাহুল্য। উপস্থাপনা এবং বক্তৃতার প্রথম ধাপ পরিপাটি বা সাজসজ্জা
১. প্রদর্শিত হওয়া যেহেতু উপস্থাপনা এবং বক্তৃতা একটি পাবলিক এবং আনুষ্ঠানিক বিষয়। তাই স্থান ও অবস্থা ভেদে আপনার পোশাক নির্বাচন করুন। এটা এমন একটা বিষয় যে, সুন্দর ও মননশীল হলেই মানুষ আপনার প্রতি আকৃষ্ট হব
২. ধুয়ে মুছে ইস্ত্রি কয়েকদিন আগেই নির্ধারিত পোশাক ধুয়ে মুছে ইস্ত্রি করে রাখুন। কাজে যাওয়ার আগের দিন পোশাকটি নির্বাচন করে রাখুন। ছেলেরা শার্ট-প্যান্ট এবং মেয়েরা শাড়ি বা সালোয়ার-কামিজ পরিধান করতে পারেন। ৩. রঙ নির্বাচন খুব বেশি উজ্জ্বল না আবার খুব বেশি অনুজ্জ্বলও না, আরামদায়ক ও দেখতে মানানসই এরকম কাপড় নির্বাচন করুন
৪. চুল, দাড়ি ছেলেরা চুল, দাড়ি কাটিয়ে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন হয়ে নিন। তারপর ঋতু, সময় এবং অবস্থা ভেদে টাইও পরতে পারেন।
৫. হালকা সাজ মেয়েরা অধিক সাজসজ্জা পরিহার করুন এবং হালকা সাজসজ্জার উপর নিজেকে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করুন।
৬. সুগন্ধি ব্যবহার অতীব তীব্র বডি স্প্রে বা সুগন্ধি ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন।
৭. জুতা একজন ব্যক্তির পায়ের জুতাই বলে দেয় ব্যক্তির রুচিবোধের কথা। তাই আগের দিন জুতা নির্বাচন করে রাখুন।
৮. প্রতিষ্ঠানিক জিনিস প্রতিষ্ঠানের বা প্রোগ্রামের আইডিকার্ড, ঘড়ি, চশমা এগুলো প্রস্তুত রাখুন। মোট কথা, উপস্থাপনা ও বক্তৃতার জন্য আপনার ব্যক্তিত্ব সাজসজ্জার মাধ্যমে উপস্থাপিত করতে পারেন। উপস্থাপনা এবং বক্তৃতার দ্বিতীয় ধাপ স্ক্রিপ্ট তৈরি বা নোট তৈরি করা
৯. নোট বা স্ক্রিপ্ট উপস্থাপনায় বা বক্তৃতায় কি বলবেন তার জন্য একটি নোট তৈরি করুন। নতুবা আপনি হঠাৎ করে ঘাবড়ে যেতে পারেন দর্শকশ্রোতাদের সামনে। সাথে কিছু উদাহরণ মুখস্থ করুন।
১০. সঠিক ভাবে উচ্চারণ আপনার কথা গুলো এমন হওয়া উচিৎ হবে যা সবাই পরিষ্কার ভাবে বুঝতে পারে। উপস্থাপনা করার সময় আপনি কথা গুলো খুব দ্রুত বা গড়গড় করে না বলাই ভালো, সময় নিয়ে বুঝিয়ে ও পরিষ্কারভাবে কথা বলুন, এতে আপনার কথা সবার বুঝতে সুবিধা হবে এবং সবার মনযোগ বজায় থাকবে।
১১. আত্মবিশ্বাস নিজের প্রতি ও নিজের বিষয় বা নোট সম্পর্কে আত্মবিশ্বাসী থাকুন। অপ্রয়োজনীয় ও অমার্জিত বিষয় স্ক্রিপ্টে ব্যবহার করবেন না।
১২. সময়, দর্শকশ্রোতা সময়, দর্শকশ্রোতাদের শ্রেনী বা ক্যাটাগরি এবং অবস্থার কথা মাথায় রেখে স্ক্রিপ্ট তৈরি করুন
১৩. অনুশীলন আয়না বা অন্য কারো মুখোমুখি হয়ে স্ক্রিপ্ট অনুশীলন করুন। ১৪. মূল বিষয় স্ক্রিপ্টের মূল বিষয়গুলো মাথায় থাকলে আপনি সবার সামনে ভালভাবে উপস্থাপনা করতে পারবেন বা বক্তৃতা দিতে পারবেন।
১৫. অনুসরণ সার্থক একটি উপস্থাপনা ও বক্তৃতার জন্য একজন ভাল উপস্থাপক বা বক্তার স্ক্রিপ্ট কিংবা ইউটিউব থেকে ভিডিও অনুসরণ করতে পারেন।
১৬.সাংকেতিক বিষয় উপস্থিত দর্শক শ্রোতাদের আকর্ষণ করে এরকম কিছু শব্দ বা লাইনও টুকে রাখতে পারেন। এমনভাবে কিছু সাংকেতিক বিষয় দিয়ে সাজাবেন যাতে আপনার এক নজর দেখার সাথে সাথে মনে পড়ে। উপস্থাপনা এবং বক্তৃতার তৃতীয় ধাপ শারীরিক অঙ্গভঙ্গি
১৭. মার্জনীয় ভাব উপস্থাপনা এবং বক্তৃতার জন্য আপনার শারীরিক অংগভঙ্গি অবশ্যই বাস্তববুদ্ধিসম্পন্ন এবং মার্জনীয় হতে হব
১৮. দর্শক সারি প্রয়োজনে আপনি কয়েক ধাপ অনুষ্ঠানস্থলের কাছাকাছি হেঁটে নিতে পারেন অথবা দর্শক সারির মাঝামাঝি গিয়ে একটু ঘুরে আসতে পারেন যা আপনার আত্মবিশ্বাস অটুট করবে।
১৯. অবগত থাকা মনে রাখবেন আপনি আপনার স্ক্রিপ্ট সম্পর্কে যদি অবগত থাকেন তাহলে আপনি সুন্দরভাবে অঙ্গভঙ্গি ও চমকপ্রদ কিছু কথা দিয়ে –অল্প সময়েই দর্শকশ্রোতাদের মন জয় করে ফেলতে পারবেন। —সামনে যারা থাকবেন তারা সবাই পুতুল আর আপনি মানুষ। আপনি যা বলবেন তাই তারা শুনবেন। কাজেই শারীরিক অঙ্গভঙ্গিতে সেটা ফুটিয়ে তুলুন
২০. দৃষ্টিভঙ্গি সবার চোখের তাকিয়ে কথা বলার চেষ্টা আপনার আত্মবিশ্বাস বজায় রাখবে। এবং অনেক সময় আপনার চোখ আপনার না বলা কথা বলে দেবে।
২১. প্রশ্ন করা উপস্থাপনা বা বক্তৃতা দিতে গিয়ে শুধু যে নিজেই কথা বলবেন তা না দর্শক সারি কে প্রশ্ন করার মাধ্যমে দর্শকের মনযোগ আপনার প্রতি ধরে রাখার চেষ্টা করুন। উপস্থাপনা ও বক্তৃতা একটি অনন্য গুণ এর ফলে সবাই আপনার কথা ও কাজকে গুরত্ব প্রদান করবে। উপস্থাপনা ও বক্তৃতা দ্বারা নিজের ব্যক্তিত্বকে ফুটিয়ে তুলতে পারবেন। নিজেকে এই গুণে গুণান্বিত করতে পারলে জীবনের উন্নতির ক্ষেত্রে কোন বাধা থাকবে না
Post a Comment