Showing posts with label শিক্ষা সংবাদ. Show all posts
Showing posts with label শিক্ষা সংবাদ. Show all posts

July 29, 2018

শ্রেষ্ঠ শিক্ষক বাছাইয়ে ১০০ নম্বরের মানবন্টন



শ্রেষ্ঠ শিক্ষক বাছাইয়ে ১০০ নম্বরের মানবন্টন
আমরা জানি প্রতিবছর সরকারিভাবে বিভিন্ন বিষয়ের উপর নম্বর প্রদান করে শ্রেষ্ঠ শিক্ষক নির্বাচন করে স্ব স্ব উপজেলার 'শ্রেষ্ঠ শিক্ষক নির্বাচন বাছাই কমিটি'। এভাবে উপজেলা থেকে পর্যায়ক্রমে জেলা,বিভাগ ও জাতীয় কমিটি নির্দিষ্ট নম্বরের আলোকে শ্রেষ্ঠ শিক্ষক বাছাই করে। আজকে আমি প্রাথমিক পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ শিক্ষক বাছাইয়ে ১০০ নম্বরের মানবন্টন নিয়ে আলোচনা করছিঃ
১.SSC- প্রথম বিভাগ- ২ নম্বর
২. HSC- প্রথম বিভাগ-২ নম্বর
৩. C-IN-ED- প্রথম বিভাগ-২ নম্বর
৪. স্নাতক/অনার্স -প্রথম বিভাগ/শ্রেণি -২ নম্বর
৫. স্নাতকোত্তর/বি-এড/এম-এড-প্রথম শ্রেণি -২নম্বর
৬. অভিজ্ঞতা-১০ বছর-২ নম্বর, ১৫ বছর-৩, ২১ বছর-৪, ২৬ বছর-৫
৭. শিক্ষামূলক প্রকাশনা/ গবেষণা- ৫
৮.শিক্ষকের হাতের লেখা ও চক বোর্ড ব্যবহার- ৩
৯.নিজ স্কুলে বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী- ৪
১০.সৃজনশীল প্রশ্ন তৈরির ও মূল্যায়নের দক্ষতা-৩
১১. শিশুদের নিকট জনপ্রিয়তা -৩
১২. সহপাঠ্যক্রমে সম্পৃক্ততা ও বিশেষ কৃতিত্ব-৫
১৩. সপ্তাহে ৩০ পিরিয়ড ক্লাস করা-৩
১৪. পাঠ পরিকল্পনা অনুসারে পাঠদান দক্ষতা- ৩
১৫. যে বিষয়ে শিক্ষা দেন সে বিষয়ে শিক্ষকের দখল-৩
১৬. ভাষা শিক্ষাদানে যথাযথ কৌশল-৩
১৭. প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত বিষয়ে জ্ঞানের গভীরতা এবং
কর্মকেন্দ্রিক পাঠদানে দক্ষতা-৩
১৮. স্থানীয়ভাবে সহজলভ্য শিক্ষোপকরণ তৈরি ও ব্যবহার-৩
১৯. শিখন শেখানো কার্যাবলিতে উপকরণ ব্যবহারে দক্ষতা-৩
২০. শিখন শেখানোতে শিক্ষকের বাচনভঙ্গি ও পাঠ বুঝানোর
কৌশল-৩
২১. শিক্ষার্থীদের প্রশ্ন করে উত্তর আদায়ে দক্ষতা ও
শিশুদের প্রশ্ন করার সুযোগদান-৩
২২. পাঠদানে আনন্দদায়ক পরিবেশ সৃষ্টি -৩
২৩. শিশুদের নাম ও পারিবারিক পরিচিতি জানা এবং স্নেহ করা-৩
২৪. পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের প্রতি বিশেষ যত্ন-৩
২৫. স্কুল বহির্ভূত ছেলেমেয়েদেকে বিদ্যালয়ে আনা ও
বিদ্যালয় পরিত্যাগ রোধ-৩
২৬. পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের প্রতি বিশেষ যত্ন-২
২৭. অধ্যায় শেষে পাক্ষিক/ মাসিকপরীক্ষা গ্রহণ ও উত্তরপত্র
সংরক্ষণ-২
২৮. রেকর্ডপত্র সংরক্ষণ এবং হালফিল-৩
২৯. নিয়মানুবর্তিতা -৩
৩০. বিদ্যালয়ে বাগান করা-২
৩১. বিদ্যালয়ের প্রতি আন্তরিকতা-৩
৩২. কমিটি কর্তৃক সাক্ষাৎকার গ্রহণ-১০।

February 9, 2018

২০১৮ - ১৯ শিক্ষাবর্ষে দেশের বাইরে শিক্ষাবৃত্তির জন্য আবেদন


ভারতীয় হাইকমিশন, ঢাকা আনন্দের সঙ্গে ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের জন্য ইন্ডিয়ান কাউন্সিল ফর কালচারাল রিলেশন্স (আইসিসিআর) শিক্ষাবৃত্তি ঘোষণা করছে। একমাত্র চিকিৎসাশাস্ত্র ছাড়া অন্য সব বিষয়ে স্নাতক, স্নাতকোত্তর এবং পিএইচডি পর্যায়ে পড়াশোনা করার জন্য মেধাবী বাংলাদেশি নাগরিকদের এই শিক্ষাবৃত্তি দেওয়া হয়ে থাকে। ভারত সরকার এ পর্যন্ত প্রায় তিন হাজার বাংলাদেশি নাগরিককে আইসিসিআর শিক্ষাবৃত্তি দিয়েছে।
২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের জন্য স্নাতক, স্নাতকোত্তর এবং পিএইচডি পর্যায়ে (চিকিৎসাশাস্ত্র ছাড়া) বিভিন্ন কোর্সে পড়াশোনা করার জন্য নিম্নলিখিত বৃত্তি স্কিমগুলো দেওয়া হচ্ছে :

April 8, 2017

নেত্রকোণার পূর্বধলার আরবান একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা জনাব, মোস্তফা জব্বার এর কিছু কথা







ডিজিটাল শিক্ষা শিশুর অধিকার

  আমি মনে করি, শিশুদের বিষয়টি আমরা বহুদিন ধরে অবহেলা করে আসছি। এমনকি কম্পিউটারকে শিক্ষার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার কথাই আমরা ভাবিনি। প্রথাগতভাবে ব্যবসা-বাণিজ্য-শিল্প-কল-কারখানা কম্পিউটার ব্যবসায়ীদের ভাবনার কেন্দ্রে রয়েছে। কোনো কোনো সময় সরকারের কথাও ভাবা হয়। কিন্তু দেশের চার কোটি ছাত্র-ছাত্রীর কথা মোটেই ভাবা হয় না। আমি মনে করি শিশুতো বটেই সামগ্রিকভাবে শিক্ষা খাত আমাদের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের কেন্দ্রতেই বিবেচিত হতে পারে। সম্ভবত এটি এই খাতের সবচেয়ে বড় হার্ডওয়্যার বাজার। শিক্ষার ডিজিটাল কনটেন্টও হতে পারে বিশাল একটি ক্ষেত্র। এর কারণটি হচ্ছে যে বাংলাদেশে ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা ৪ কোটি এবং শিশুদের সংখ্যা প্রায় ২ কোটি। ওরা এখন বই-খাতা-কলম দিয়ে পড়াশোনা করে। বড়দের কেউ কেউ ল্যাপটপ জাতীয় যন্ত্র ব্যবহার করে। ওদের হাতে নিজেদের স্মার্ট ফোনও থাকে। কিন্তু শিশুরা না হতে পারে কম্পিউটারের মালিক না হতে পারে স্মার্ট ফোনের অধিকারী। ওদের হাতে বাবা-মার স্মার্ট ফোনটা হয়তো কখনও খেলনা হিসেবে পৌঁছে এবং তারা তাতে গেম খেলে আনন্দ পায়। এই শিশুদের হাতে যদি ডিজিটাল ডিভাইস হিসেবে কম্পিউটার দেয়া যায় তবে সেই সংখ্যাটি হবে দুই কোটি। বিষয়টি এখানেও থামবে না। প্রতি বছর নতুন শিশুর জন্ম হচ্ছে এবং কেবলমাত্র প্রাথমিক স্তরে প্রতি বছর অন্তত ২৫ লাখ নতুন শিশু যোগ দেয়। দুই কোটি বিদ্যমান শিশুর সাথে যদি প্রতি বছরের ২৫ লাখকে যোগ করা যায় তবে আমরা বুঝতে সক্ষম হবো যে মুজিবুর রহমান স্বপন অত্যন্ত দূরদর্শী একটি সিদ্ধান্ত নিতে পেরেছেন। তবে প্রশ্ন হচ্ছে যে, শিশুদের হাতে কম্পিউটার নামক ডিজিটাল যন্ত্র কিভাবে পৌঁছানো যাবে। এরই মাঝে আমরা সরকারকে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা স্তরে কম্পিউটার ল্যাব গড়ে তুলতে দেখছি। আমাদের সরকার ও নীতি নির্ধারকরা মনে করেন যে কম্পিউটার শেখা এবং কম্পিউটার দিয়ে শেখার জন্য ডিজিটাল ক্লাশরুম গড়ে তোলাটা কেবল তরুণ-তরুণীদের বা যুবাদের জন্যই হওয়া উচিত। যদিও কোনো কোনো প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এরই মাঝে একটি করে ল্যাপটপ বা কোথাও একটি ল্যাপটপ-একটি প্রজেক্টর দেয়া হয়েছে তথাপি শিশুদের কথা, তাদের ক্লাশরুম বা শিক্ষকের কথা মোটেই ভাবা হযনি। আমার এই ভাবনাটি অনেক আগের। আমি ৮৭ সালে অ্যাপল কম্পিউটারকে শিক্ষাকে গুরুত্ব দিতে দেখেছি। আমি মালয়েশিয়ার স্মার্ট স্কুল দেখেছি। আমি ডেনমার্কের স্কুলের জন্য সফটওয়্যার বানিয়েছি। আমি ৯৭ সালে আমেরিকা থেকে সফটওয়্যার এনে নিজের ছেলেকে পড়িয়েছি। সেই ভাবনা থেকেই ১৯৯৯ সালের ২৪ ডিসেম্বর গাজীপুরের ছায়াবিথীতে আমি একটি স্কুল গড়ে তুলি। গাজীপুরের আজিমউদ্দিন কলেজের শিক্ষক মজিবুর রহমানের পরিচালনায় স্কুলটির উদ্বোধন করেন ড. জামিলুর রেজা চৌধুরী ও তার স্ত্রী সেলিনা মল্লিক। সেখানেই আমরা বাংলাদেশের শিশুদের জন্য প্রথম কম্পিউটার শিক্ষা বাধ্যতামূলক করি এবং তাদের ক্লাশরুমে কম্পিউটার নিয়ে গিয়ে কম্পিউটার দিয়ে লেখাপড়া করানো শুরু করি। তবে যে সমস্যাটি তখন তীব্র হয় সেটি হচ্ছে বাংলাদেশের পাঠ্য বিষয় নিয়ে বাংলায় তৈরি ডিজিটাল কনটেন্ট পাওয়া যায়নি। আমার নিজের পরিচালনায় ৩২টি মাল্টিমিডিয়া সেন্টার থেকে এ ধরনের কনটেন্ট তৈরি করার উদ্যোগ নিয়েও গুণগত মান ভালো না হওয়ায় সুবিধা করতে পারছিলাম না। অবশেষে ২০০৯ থেকে বিজয় ডিজিটালের প্রধান নির্বাহি জেসমিন জুই ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরির নেতৃত্ব গ্রহণ করার পর ২০১১ সালে প্রথম বিজয় শিশু শিক্ষা আত্মপ্রকাশ করে এবং এরপর থেকে অবিরাম কাজ করতে করতে আমরা ২০১৬ সাল নাগাদ প্রাক প্রাথমিক থেকে দ্বিতীয় শ্রেণি পর্যন্ত সফটওয়্যার তৈরি করতে সক্ষম হই। জেসমিন ও তার বাহিনীকে এজন্য অভিনন্দন। ওরা আমার স্বপ্নটাকে পূর্ণতার দিকে নিয়ে এসেছে। বস্তুত ২০১১ সাল থেকেই এদেশের শিশুরা কম্পিউটার দিয়ে লেখাপড়া করার জগতে দারুণভাবে প্রবেশ করে। অনেকেই ব্যক্তিগত কম্পিউটারে আমাদের সফটওয়্যারগুলো ইন্সটল করে শিশুদেরকে তাদের শিক্ষা গ্রহণে সহায়তা করতে থাকেন। এরই মাঝে সরকারের এটুআই টিচার লেড কনটেন্ট নামক এক ধরনের কর্মসূচি গ্রহণ করে। সরকারের আইসিটি ডিভিশন বিনা টেন্ডারে ব্র্যাক নামক একটি এনজিওকে দিয়ে প্রাথমিকের সফটওয়্যার তৈরির উদ্যোগ নেয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ও ব্র্যাককে দিয়ে একইভাবে বিণা টেণ্ডারে ষষ্ঠ শ্রেণির ডিজিটাল কনটেন্ট বানানোর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। সাবেক শিক্ষা সচিব এন আই খান এক সময়ে ষষ্ঠ শ্রেণির সকল ছাত্র-ছাত্রীকে ২৫ লাখ ট্যাব দেবেন বলেও ঘোষণা করেছিলেন। তবে এসব কাজের কোনোটাই আলোর মুখ দেখার আগে আমরা একটি সাহসী উদ্যোগ নিতে সক্ষম হই। নেত্রকোণা জেলার পূর্বধলা উপজেলার আরবান একাডেমির প্রথম শ্রেণির ৪০টি শিশুর হাতে আমরা ৮ ইঞ্চির একটি ডিজিটাল ডিভাইস দিতে সক্ষম হই। মাত্র নয় হাজার টাকায় অরিজিনাল উইন্ডোজসহ এই ডিভাইসটিতে দেয়া হয় বিজয়-এর সকল শিক্ষামূলক সফটওয়্যার। ২৮ ডিসেম্বর ২০১৫ এই ক্লাশরুমটির উদ্বোধন করেন নেত্রকোণার জেলা প্রশাসক তরুণ কান্তি শিকদার। সেদিনের ফিতা কাটার ক্ষণটিতে আমি, জেসমিন, পরমাসহ স্থানীয় বিশিষ্টজনেরাও ছিলাম। এরপর আনন্দ মাল্টিমিডিয়া স্কুল গৌরীপুরের শিশু শ্রেণির সকলকে এই ডিজিটাল ডিভাইস প্রদানের উদ্যোগ নেয়া হয়। এর বাইরেও অন্তত ২৫টি স্কুলে এই ডিভাইস পরীক্ষামূলকভাবে প্রদান করা হয়। আমি প্রত্যাশা করছি সরকারের টেলিকম বিভাগ সহসাই দেশের ২০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সকল ছাত্র-ছাত্রীর হাতে এ ধরনের ডিজিটাল ডিভাইস দেবার জন্য একটি পাইলট প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে। প্রসঙ্গটি জাতীয় মিডিয়ারও দৃষ্টি আকর্ষণ করে। ১৮ জাুনয়ারি ১৬ দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকায় ছাপা হয় একটি খবর। এর শিরোনাম ছিলো, “পুরোপুরি ডিজিটাল শিক্ষা ব্যবস্থায় শিশু আনন্দের সঙ্গেই শিখতে পারে।” খবরটিতে অ্যাপল কম্পিউটার থেকে আনন্দ মাল্টিমিডিয়া স্কুল গড়ে তোলা এবং নিজস্ব ইন্টারঅ্যাকটিভ মাল্টিমিডিয়া সফটওয্যার তৈরির বিবরণ দেবার পর নেত্রকোণা জেলার পূর্বধলার আরবান স্কুলের প্রথম শ্রেণির ছাত্র-ছাত্রীদের অভিজ্ঞতার বিবরণও প্রদান করা হয়। এতে বলা হয়, “নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার আরবান একাডেমির অধ্যক্ষ সৈয়দ আরিফুজ্জামানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিদ্যালয়টির ডিজিটাল শিক্ষা কার্যক্রম সম্পর্কে জানান। তিনি বলেন, ‘আমরা প্রথমে বিজয় শিশুশিক্ষার প্রাক্-বিদ্যালয় বিষয়বস্তুগুলো শ্রেণিকক্ষে বড় পর্দায় দেখানো শুরু করি। এতে বেশ ভালো ফল পাওয়া যায়। শিক্ষার্থীরা আগ্রহের সঙ্গে পড়াশোনা করে।’ এরপর তিনি ভেবে দেখেন, যদি প্রতিটি শিশুর হাতে তা পৌঁছে দেওয়া যায়, তবে আরও ভালো হয়। এর মধ্যে বিজয় শিশুশিক্ষা দ্বিতীয় শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষা উপকরণ তৈরি করে ফেলে। এগিয়ে আসে বেসরকারি সংস্থা ডিনেট। ওদিকে মোস্তাফা জব্বার সরকারি-বেসরকারি সব পর্যায়ে চেষ্টা চালিয়ে যান স্বল্পমূল্যে ট্যাবলেট কম্পিউটারের খোঁজে। অবশেষে সব ব্যবস্থা হয়ে গেলে গত বছরের ২৮ ডিসেম্বর আরবান অ্যাকাডেমির প্রথম শ্রেণিতে পড়ুয়া ৪০ শিক্ষার্থীর হাতে কি-বোর্ডসহ ট্যাবলেট কম্পিউটার তুলে দেওয়া হয়। ‘স্বদেশ’ নামের এই ট্যাবলেট কম্পিউটার বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছে শিশুদের পাঠদানের উপযোগী করে। প্রতিটি ট্যাবলেটে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের প্রথম শ্রেণির সিলেবাস অনুসরণ করে তৈরি করা বিজয় প্রাথমিক শিক্ষা-১ সফটওয়্যার ইনস্টল করা আছে। উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমে চলা এসব কম্পিউটার ও ডিজিটাল শ্রেণিকক্ষের কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে বিজয় ডিজিটাল। সৈয়দ আরিফুজ্জামান ২০১৮ সালের মধ্যে প্রথম থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত সব শিক্ষার্থীর হাতে এই ট্যাবলেট কম্পিউটার পৌঁছে দেওয়ার আশা ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, ‘খুব দ্রুত এই শিক্ষার্থীরা ট্যাবলেট কম্পিউটারের ব্যবহার আয়ত্ত করে ফেলেছে। শিখছেও দ্রুত। এই মাধ্যমে শিক্ষা খুব কার্যকর হচ্ছে।’ আশির দশকে যুক্তরাষ্ট্রে যে বিপ্লবের সূচনা হয়েছে, আমাদের দেশে তা হচ্ছে এত দিন পর। তবু তো চাকা গড়াল। সে জন্যও উদ্যোক্তারা একটা ধন্যবাদ তো পেতেই পারেন। তথ্যপ্রযুক্তির হাত ধরে একদিন জ্যোতির্ময় বাংলাদেশ গড়ে উঠবে এমনটাই সবার প্রত্যাশা। কেবল পূর্বধলার অভিজ্ঞতাই নয়, আনন্দ মাল্টিমিডিয়া স্কুল, গৌরীপুর, ই-বর্ণমালা স্কুল নোয়াপাড়া যশোর, ইংলিশ ভারসন স্কুল মিরপুরসহ অন্তত শ খানেক স্কুলে বিজয়-এর সফটওয়্যারসহ মিনি ল্যাপটপ পৌঁছেছে। কেউ কেউ ছাত্র-ছাত্রীদের হাতেও এই মিনি ল্যাপটপ পৌঁছে দিয়েছেন। কেউ কেউ ক্লাশরুমটাকে ডিজিটাল করেছেন।

 

April 1, 2017

শিক্ষকরা চায় তাদের কাজের স্বীকৃতি

একটা প্রবাদ আছে " যে দেশে গুণীর সমাদর নেই সে দেশে গুনীর জন্ম হয় না"। আমাদের ১ লক্ষ ৪৭ হাজার বর্গমাইল দেশে জন সংখ্যা ১৬ কোটির ওপরে । আমাদের এই দেশে যে পরিমান গ্রাজুয়েট শিক্ষিত জনগোষ্ঠি আছে, ইউরোপের ১০টা দেশ মিলিয়েও সেই জন সংখ্যার সমান না। কিন্তু আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আমাদের গর্ব করার মতো তেমন কোন অবদান নেই । এতো বিশাল জনগোষ্ঠী, এতো শিক্ষিত জনবল!!! নোবেল পুরস্কার নাই বললেই চলে । যেওবা আছে ( তার প্রতি যথেষ্ট সম্মান রেখেই বলছি) নিজে অর্থনীতির মানুষ হয়ে শান্তিতে নোবেল । সেটাও মাঝে মাঝে শুনি কোন এক জনগোষ্ঠী প্রতিবাদ করে, সেটা ফিরিয়ে নেয়া হোক ।
মাত্র ৬০ বছর আগে স্বাধীন হওয়া একটি দেশ সিংগাপুর , যেটা ছিল এক সময়ে একটা জেলেদের দ্বীপ। দারিদ্র, ক্ষুধা, অশিক্ষা তথা চরম ভাবে বিপর্যস্থ একটি দেশ। কেবল মাত্র শিক্ষানীতির পরিবর্তন করে, আজ ৬০ বছর পরে, তারা চরম ভাবে উন্নয়নের শিখরে, আজ তাদের দেশের কেউ আমাদের দেশে চিকিৎসার জন্য আসে না বরং আমাদের প্রধান মন্ত্রী মাউন্ট এলিজাবেথে যান চিকিৎসার জন্য তাদের দেশে ।
আব্দুর রাজ্জাক যিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন লেকচারার ছিলেন, আধুনিক সময়ে যদি বাংলাদেশের সক্রেটিস কাঊকে ঘোষনা দেয়া যায়, তার নাম আসবে সবার আগে, তিনি এপরিমান পড়াশুনা তথা জ্ঞান আহরণের কাজে ব্যাস্ত থেকেছেন যে তার প্রফেসার ডিগ্রিটা নেবার সময় হ নাই, তিনি কি পরিমান পন্ডিত ব্যাক্তি ছিলেন তার একটা নমুনা " যদ্দ্যপি আমার গুরু" আহমেদ সফা আর তার আলাপ চারিতাই এই বইয়ে লিপি বদ্ধ্য আছে। আহমেদ সফা একেক টা বিষয়ে তাকে প্রশ্ন করছেন, এবং তিনি যে উত্তর দিচ্ছেন সেটা সে বিষয়ের একটা সেরা উক্তি হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু দেশের অঙ্গনে তার কোন স্বীকৃতি নেই ।
এরকম হাজারো উদাহরন আছে, আমাদের এই দেশে । এবারে আসি আমাদের প্রাথমিক শিক্ষায় । আমাদের প্রত্যন্ত অঞ্চলে এমনও অনেক শিক্ষক আছেন যারা ,বিদ্যালয়ে তাদের শ্রম, মেধা সময় সব কিছু উজাড় করে দিচ্ছেন,বিদ্যালয়ের কাজে সকাল থেকে সন্ধ্যা আবার অনেকে আছেন যারা রাত অবধি কাজ করেন শিক্ষার্থীদের এবং বিদ্যালয়ের কাজের জন্য। এর জন্য তারা কি পান ? তারা কি আদৌও কোন স্বীকৃতি পান, স্থানীয় কতৃপক্ষের কাছে , আমাদের বগুড়ার এক জন শিক্ষিকা যিনি আন্তর্জাতিক ভাবে শ্রেষ্ঠ শিক্ষক নির্বাচিত হয়েছেন , আপনারা কি কেউ বলতে পারবেন তিনি জেলা পর্যায়ে, বিভাগীয় পর্যায়ে বা জাতীয় কখনও শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছিলেন ?
আমাদের উর্ধত্বনরা অভিযোগ করেন ,তারা বিদ্যালয়ে গেলে শিক্ষকদের স্কুলে পান না, এটাই কি সারা দেশের চিত্র। উত্তর আবশ্যই না, ব্যাতিক্রম যেমন উদাহরন হয়না, তেমনি সকল শিক্ষকও ফাকি বাজ না, দেশে এখনো হাজার হাজার শিক্ষক আছেন যারা বিদ্যালয়ের জন্য নিবেদিত প্রান ।
আমাদের স্বীকৃতি দিন আমরা আরো আনেক কিছু করে দেখবো, দেখবেন গোটা দেশের চিত্রই আমরা পাল্টেদেব ।

March 23, 2017

শিক্ষক সুরক্ষা আইন কেন প্রয়োজন ?



শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড, শিক্ষা ছাড়া কোনো জাতি উন্নতি লাভ করতে পারে না, যে জাতি যত বেশি শিক্ষিত সে জাতি তত বেশি উন্নত- এসব প্রবাদ যাকে ঘিরে রচিত হয়েছে তিনি হলেন ‘শিক্ষক’। জন্মের পর একটা শিশুর অন্তর থাকে সাদা কাগজের মতো আর মাতা-পিতার কাছ থেকে প্রাক-পূর্ব প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করে এ সাদা অন্তরে কিছুটা কালি পড়ে। এরপর প্রাক- প্রাথমিক থেকে শুরু করে একেবারে কর্মজীবন এমনকি মৃত্যুকালীন পূর্ব পর্যন্ত শিক্ষকদের তত্ত্বাবধানে থেকে তার অন্তরটা অভিজ্ঞতায় ভরপুর করে তুলে। আবার শিক্ষকের কাছ থেকে শিখে আমরা আজ কথা বলতে পারি, পৃথিবীকে বুঝতে পারছি, জানতে পারছি সমাজকে, উপলব্ধি করতে পারি ন্যায়-অন্যায়, ভালো-মন্দ, উচিত-অনুচিত প্রভৃতি পরিশেষে শাণিত করেছি আমাদের মেধা আর মননকে। সমাজকে আলোকিত করার, সমাজ থেকে যাবতীয় কুসংস্কার, কু-প্রথা, অন্ধকার দূর করে এই মহান শিক্ষকরা। এ দিকে লক্ষ রেখেই মনে হয় এশিয়ার মিসাইল ম্যান খ্যাত সদ্য প্রয়াত ভারতের রাষ্ট্রপতি এ পি জে আবুল কালাম আজাদ বলেছিলেন, বাবা, মা আর শিক্ষক এই তিনজন সমাজে পার্থক্য গড়ে দিতে পারে। প্রয়াত রাষ্ট্রপতি শিক্ষকদের গুরুত্ব উপলব্ধি করেই মনে হয় এ কথাটা বলেছিলেন আর বলবেন নাই বা কেন একজন শিক্ষার্থী চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে ১৬ ঘণ্টাই যে শিক্ষকের তত্ত্বাবধানে থাকে- এ কথাটা আমরা অস্বীকার করতে পারি না; এ সময়ে একজন শিক্ষার্থী তার শিক্ষক থেকে চাল-চরণ, আচার-আচরণ, কথা-কাজ, পোশাক-পরিচ্ছেদ, স্টাইল প্রভৃতি অনুকরণ করতে চেষ্টা করে। কিন্তু এতকিছুর পর আজ পেশাজীবনে সবচেয়ে অবহেলিত, বঞ্চিত আর নির্যাতিত এবং অপমানিত সম্প্রদায়ের নাম শিক্ষক সমাজ। আগে শিক্ষকতাকে একটি সম্মানজনক পেশা হিসেবে বিবেচনা করে এই পেশায় নিয়োজিত ব্যক্তিদের সর্বক্ষেত্রে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে তাদের যে কোনো কাজ কথা প্রভৃতি মানুষ মেনে নিত এবং তাদের বিশ্বাস করত। কিন্তু আদর্শহীনতার এ যুগে সমাজের বিকৃতরূপ প্রকাশিত হচ্ছে বিশ্ববাসীর কাছে যার ফলে পিতৃতুল্য এসব শিক্ষককে অপহরণ করে মুক্তপণ আদায়, খুন, শারীরিক-মানসিকভাবে নির্যাতন, তার মতামতকে দমিয়ে রাখা, আর্থিকভাবে অসচ্ছল থাকায় এদের সামাজিকভাবে মূল্যায়ন করা হয় না বরং নৈতিক আর আদর্শিক শিক্ষায় শিক্ষিত বলে এদের যে কোনো কথা বা কাজের মাধ্যমে লাঞ্ছিত করে এদের সমাজের মূল স্রোত থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়ার অপচেষ্টা চলছে। আর এ কারণে দেশের চারদিক থেকে এক ধরনের আর্তনাতের ক্রন্দন সুর বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে। গত ৩০ আগস্ট শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনরত শিক্ষকদের ওপর হামলা ও নির্যাতনের চিত্র থেকে দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকদের কি অবস্থা তা সহজেই অনুমেয়। দেশের সর্বত্রই শিক্ষকদের ওপর এ ধরনের নির্যাতন হরহামেশাই ঘটছে আর এসব নির্যাতনের চিত্র কখনো গণমাধ্যমের সাহায্যে আমরা জানতে পারি, আবার কোনোটি আমরা জানতে পারি না, গণমাধ্যমে আসলে তা হয় আলোচিত বা সমালোচিত, আর গণমাধ্যমে প্রকাশিত না হলে তা হয় ওই শিক্ষকের কৃতকর্মের উপযুক্ত শাস্তি। আবার কোনো কোনোটি শিক্ষক নিজে চাকরিচ্যুত আর সম্মান হারানোর ভয়ে প্রকাশ করেন না কেননা শিক্ষক হওয়ায় সে যে খুবই অসহায়। তাদের যে সমাজের মানুষের সহানুভূতি আর করুণার ওপর চেয়ে থাকতে হয়, এদের তো সমাজে বিশেষ কোনো ক্ষমতা নেই। আবার কোনো শিক্ষক প্রতিবাদ করলেও তা শিক্ষকসুলভ আচরণ নয় বলে তাকে শোকস করে আবার কখনো বহিষ্কার করার ঘটনাও ঘটে যা এখন নিত্যনতুন ঘটনায় পরিণত হয়েছে। এই বছরের রমজানের শেষ সময়ে একজন মুক্তিযোদ্ধা তার নিজ হাতে স্বাধীন করা দেশে কর্মরত একজন সচিবের কাছে গিয়ে যখন বুঝলেন যে তিনি অপমানিত হচ্ছেন তখন তিনি যন্ত্রণায় কাতর হয়ে আত্মহত্যা করেন। কিন্তু শিক্ষকের ক্ষেত্রে আত্মহত্যা করারও যে অধিকার নেই কেননা তিনি তো জীবনের ওপর নৈতিকতার আর আদর্শের প্রথম স্লোগান আত্মহত্যা মহাপাপ এসব শিখেয়েছিলেন!! ফলে তাকে আত্মসমর্পণ করে কারাগারে বাস করতে হবে!

এখন সময় এই পেশাকে মহৎ আর সম্মানের পেশা হিসেবে নিত। কিন্তু বর্তমান ক্ষমতার লোভ, রাজনীতি আর অর্থের দ্বারা পরিচালিত এ সমাজে শিক্ষকদের নেই কোনো মর্যাদা, নেই কোনো অবস্থান তাই এ সময়ে আর মানুষের করুণা আর সহানুভূতির দিকে তাকিয়ে থেকে তাদের লাঞ্ছিত হতে হবে। ফলে ছাত্রদের দ্বারা হতে হয় নির্যাতিত হতে হচ্ছে বারংবার! শাবির ঘটনা ঘটার পর জনপ্রিয় শিক্ষক ড. জাফর ইকবাল স্যারের প্রতিক্রিয়াটি কার না হৃদয়ে দাগ কাটেনি? এরপর কি হয়েছে তাদের কোনো বিচার হয়েছে? বহিষ্কারই কি তার উপযুক্ত শাস্তি? এতে করে কি এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে না বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে? একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ওপর যদি এ ধরনের হামলা হয় তবে তার থেকে নিচু স্তরের কলেজ বা স্কুলগুলোতে কি পরিমাণ শিক্ষক নির্যাতিত হচ্ছে তা সহজেই অনুমিত।

শিক্ষকতা পেশা হিসেবে এদের মান-মর্যাদা থাকার কথা অনেক ওপরে এবং এদের এ বিষয়ে সুরক্ষা পাওয়ার কথা বা এ সংক্রান্ত একটি আইন থাকার কথা কিন্তু বাংলাদেশে শিক্ষক সুরক্ষা আইন বলে কিছু নেই। এক সময়ে শিক্ষকদের মর্যাদা নিয়ে কোনো প্রশ্ন ছিল না কেননা ওই সময়ে সবাই শিক্ষককে সম্মান দিত আর এক মহৎ পেশা হিসেবে বিবেচনা করে এদের সর্বোচ্চ সম্মান দেয়ার চেষ্টা করত কারণ তখন সমাজে নৈতিকতা আর ধর্মের দ্বারা সমাজে পরিচালিত হতো যেখানে অর্থের আর ক্ষমতার কোনো দ্ব›দ্ব ছিল না আর এখন অর্থের লোভ, ক্ষমতার অন্ধ দ্ব›দ্ব, সমাজকে সর্বোপরি জগৎকে করে তুলছে হিংস্র ও স্বার্থপর হিসেবে। আর পেশিশক্তি ব্যবহারই মনে হয় একমাত্র সমাধান যেহেতু একজন শিক্ষক নৈতিক ও আদর্শিক তাই তিনি শক্তি ব্যবহার করেতে পারেন না তাই তাকে অপমানিত আর লাঞ্ছিত হতে হচ্ছে পথে পথে তা না হলে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলার অধ্যাপককে শ্লীলতাহানিকরণ ও নির্যাতন, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হত্যা ও অপহরণ করে মুক্তপণ দাবি, শাবির ও জাবিতে তাদের দাবি আদায়ের লক্ষ্যে পরিচালিত আন্দোলনে হামলা আর নির্যাতন করা হবে কেন? সভ্যতার এই যুগে এ ধরনের অসভ্য কাজ পৃথিবীর অন্য কোনো দেশে সংঘটিত হয়েছে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ আছে।

আজ যেসব ছাত্র তাদের পিতৃতুল্য শিক্ষকদের গায়ে হাত তুলতে দ্বিধাবোধ করেনা কারণ তাদের মধ্যে নীতি- নৈতিকতা আর আদর্শের অভাব রয়েছে। বাংলাদেশের শিক্ষাকে এগিয়ে নিতে হলে এবং শিক্ষকদের ওপর নির্যাতনের মাত্রা কমাতে হলে শিক্ষক সুরক্ষা আইন বর্তমান সময়ের দাবি। রাজশাহী, জাহাঙ্গীরনগর ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক খুন, অপহরণ ঢাকা ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক লাঞ্ছনা আর নির্যাতনের পরে আওয়াজ উঠেছে শিক্ষক মর্যাদা রক্ষা ও শিক্ষক সুরক্ষা আইনের। আর দাবি উঠেছে বাংলাদেশের সমগ্র শিক্ষকদের জন্য একটি স্বতন্ত্র পে-স্কেল গঠন করার। আবার দেশের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ৩২০০ কলেজের শিক্ষকদের ওপর গভর্নিং বডির নির্যাতন আর স্কুল ম্যানেজিং কমিটির দৌরাত্ম্যে শিক্ষক সমাজ আজ বড়ই অসহায় আর নিরুপায়। ভারতীয় এজন পণ্ডিত বলেছিলেন একজন শিক্ষার্থী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১৬ ঘণ্টাই তার শিক্ষকের তত্ত্বাবধানে থাকে কিন্তু এখন তার পরিবর্তে বলতে হয় একজন শিক্ষার্থী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১৬ ঘণ্টাই যে ভারতীয় টিভি সিরিয়াল, রাজনীতিতে কর্মসূচি পালন, অন্ধ লোভ আর ক্ষমতাকে লালন বইয়ের প্রতি মনোযোগ দেয়ার পরিবর্তে ফেসবুকে আর নীল জগতে মনোযোগী হওয়ায়টাই জরুরি মনে করে; ফলে এখান থেকে প্রাপ্ত সংবেদনগুলো সে গ্রহণ করে এবং জগতেকে সেভাবে মূল্যায়ন করে। তখন শিক্ষকদের শেখানো বুলিগুলোকে বাজে কথার তুবড়ি বলে ফেলে দেবে না কেন? আবার রাজনৈতিক নেতাদের পাতি নেতারাও এসব সম্মানের আশায় এ পেশার লোকদের চোখ রাঙিয়ে আর বৃদ্ধা আঙুলি প্রদর্শন করে হরহামেশাই করে যাচ্ছে অনৈতিক আর অসামাজিক কাজসমূহ। সেখানে এসব শিক্ষক মুখ বুঝে সহ্য করা ছাড়া আর কোনো কাজই নেই। এরা কি শুধুই মানুষের সহানুভূতি আর করুণার ওপর নির্ভর করবে? এদের সামনে কোনো অনৈতিক ঘটনা ঘটে গেলেও তাদের ওই বিষয়ে মুখ খুলতে মানা!

শিক্ষক শব্দটি শুনলেই একসময় আর্দশ আর সততার ছবি ভেসে আসত আর এখন সব ক্ষেত্রে শিক্ষকের মাধ্যমে করানো হচ্ছে যাবতীয় অনৈতিক কাজ। আবার শিক্ষক সরাসরি কোনো অনৈতিক কাজের সঙ্গে জড়িত না হলেও তার সামনে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন অসামাজিক ঘটনার বিরূপ ফল তার অন্তরে দাগ কাটে কেননা অন্যায় যে করে আর যে সহে উভয়ই ঘৃণ্যতম প্রভুর তরে। এক সময়ে শিক্ষকদের মর্যাদা নিয়ে কোনো প্রশ্ন ছিল না কেননা ওই সময়ে সবাই শিক্ষককে সম্মান দিত আর এক মহৎ পেশা হিসেবে বিবেচনা করে এদের সর্বোচ্চ সম্মান দেয়ার চেষ্টা করত কারণ তখন সমাজে নৈতিকতা আর ধর্মীয় অনুশাসন দ্বারা সমাজ পরিচালিত হতো যেখানে অর্থের আর ক্ষমতার কোনো দ্ব›দ্ব ছিল না আর এখন অর্থের লোভ, ক্ষমতার অন্ধ দ্ব›দ্ব, সমাজকে সর্বোপরি জগৎকে করে তুলছে হিংস্র। আর পেশিশক্তি ব্যবহারই মনে হয় একমাত্র সমাধান যেহেতু একজন শিক্ষক নৈতিক ও আদর্শিক তাই তিনি শক্তি ব্যবহার করেতে পারেন না তাই তাকে অপমানিত আর লাঞ্ছিত হতে হচ্ছে পথে পথে। আমরা আশা করছি, বর্তমানে আন্দোলনরত শিক্ষকদের দাবি আদায়ে সরকার সচেষ্ট হবেন এবং শিক্ষক সুরক্ষা আইন প্রণয়ন করে এদের জন্য স্বতন্ত্র বেতনকাঠামো দাঁড় করাবেন।

January 14, 2017

চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বাড়ানোর দাবি






গড় আয়ু ও কর্মক্ষমতা বাড়ার যুক্তিতে সরকারি চাকরিতে অবসরের সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে। দেশের শিক্ষিত বেকার তরুণদের ক্ষেত্রেও এ কথা প্রযোজ্য। এ কারণে সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৫ করার ‘যৌক্তিক ও ন্যায়সংগত’ বলে মনে করেন বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র পরিষদের সদস্যরা।

আজ শনিবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার সামনে চাকরির বয়স ৩৫-এ উন্নীত করার দাবিতে মানববন্ধনে এ দাবি পূরণ করার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র পরিষদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার শিক্ষার্থীরা।
সমাবেশে সংগঠনটির আহ্বায়ক মো. লোকমান হায়দার চৌধুরী বলেন, বিদ্যমান শিক্ষাব্যবস্থায় ছয় বছর বয়সে শিক্ষাজীবনের শুরু হয়। স্নাতক শেষ করতে ২৩ বছর লাগে। এ ছাড়া নন-পিএসসির ক্ষেত্রে চাকরিতে আবেদন শুরুর বয়স রাখা হয়েছে ১৮ বছর, যা একটি অকার্যকর আইন। ক্যাডারের ক্ষেত্রে ২১ বছর বয়সে আবেদনের আইনটিও গ্রহণযোগ্যতা হারিয়েছে। এ কারণে চাকরিতে আবেদনের আইনটি সংশোধন করলে বর্তমানে স্নাতক শেষে চাকরিতে আবেদনের বয়স স্বাভাবিকভাবেই তা ৩৫ বছর হয়।
মো. লোকমান হায়দার চৌধুরী বলেন, ‘আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। এর আগে সংবাদ সম্মেলন করেও আমরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের সময় চেয়েছি। আমাদের বিশ্বাস, তাঁকে আমাদের ন্যায্য ও যৌক্তিক দাবির সপক্ষে যুক্তি দিয়ে প্রমাণ করতে পারব। যদি বোঝাতে না পারি, তাহলে আমাদের আন্দোলন থেকে সরে আসব।’
সমাবেশে বলা হয়, ‘দেশের মানুষের গড় আয়ু যখন ৪৫ বছর ছিল, তখন চাকরিতে প্রবেশের বয়স ছিল ২৭ বছর, আয়ু বেড়ে ৫০ হলে ৩০ বছর করা হয়। এখন আয়ু বেড়ে ৭১ হওয়ার পরও চাকরিতে প্রবেশের বয়স কোনোভাবেই ৩০ বছর থাকতে পারে না। এ বয়স অন্তত ৩৫ হওয়া উচিত। ভারতের পশ্চিমবঙ্গে সরকারি চাকরিতে বয়সের সীমা ৪০ বছর। অন্য প্রদেশগুলোতেও ৩৮ থেকে ৪০ বছর। শ্রীলঙ্কা, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, তাইওয়ান ৩৫ থেকে ৪৫ বছর। এ ছাড়া ফ্রান্স, যুক্তরাষ্ট্রসহ উন্নত দেশগুলোতে কোথাও কোথাও চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৪০ বা তার ওপরে। দেশের দক্ষ ও মেধাবীরা যেকোনো বয়সে সরকারি চাকরিতে ঢুকতে পারেন। কিন্তু আমাদের দেশে যে সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে, তা শিক্ষিত জনগোষ্ঠীর জনশক্তিতে পরিণত হওয়ার পথে বাধা।’
এ ছাড়া সরকারি চাকরি না করে কেউ যদি উদ্যোক্তা হতে চান, সে সুবিধাও এ দেশে নেই। বাংলাদেশ ব্যাংকের এসএমই লোন সব তরুণ পান না। যাঁরা এ ঋণের আবেদন করেন, তাঁদের অনেক ঝামেলার মুখে পড়তে হয়।
মানববন্ধন সমাবেশ শেষে একটি শোভাযাত্রা শাহবাগের কেন্দ্রীয় গণগ্রন্থাগারের সামনে গিয়ে শেষ হয়। এখানে বলা হয়, ২৮ জানুয়ারিতেও একই দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে মানববন্ধন করবে এ সংগঠন। এ মানববন্ধনে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
সূত্রঃ প্রথম আলো